কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়। কোন ঔষধ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়।

 

পেট পরিষ্কার হচ্ছে না পায়খানা করতে কষ্ট হয় টয়লেটে অনেক সময় ধরে বসে থাকতে হয় কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন। সমাধান কি আমি এই ব্লগে
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারন আর সেগুলোর সমাধান তুলে ধরবো। প্রত্যেকটা কারণ সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলবো যাতে আপনার পেটে কি হচ্ছে পুরোটাই বুঝতে পারেন। আর সমাধান মেনে চলতে সুবিধা হয়।


 শুরু করছি এক নম্বর কারো খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ না থাকা। পেট পরিষ্কার হওয়ার জন্য খাবার থাকা কেন খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটা একটু বুঝিয়ে বলি।

 আমাদের পেটের ভেতরে থাকার নাড়িভুঁড়ি যেখানে পায়খানা তৈরি হয় এবং জমা থাকে সেখানে আসবে। ফাইবার অনেকটা স্পঞ্জের মত কাজ করে অর্থাৎ আজ পানি শোষণ ও ধারণ করার মাধ্যমে পায়খানায় পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। খাদ্যে ফাইবার  বেশি থাকলে পায়খানা নরম হয় ভারী হয়। আর সেই পায়খানা নাড়িভুঁড়ি ভেতর দিয়ে সহজেই এগো এবং সহজেই সেটা শরীর থেকে বের করা যায়।

আর আরো অনেক ভাবে সাহায্য করে তাই খাদ্য যদি যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ না থাকে তখন কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। তাহলে সমাধান কি খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কোন কোন খাবারে ফাইবার পাওয়া যায়। যেমন ডাল ছোলা গাজর শসা টমেটো আপেল কলা প্রায় সব শাকসবজি ফলমূল অন্যান্য গোটা শস্যদানা ইত্যাদি গোটা শস্যদানা কি লাল চাল লাল আটা এগুলো থেকে সাদা করা হয় তখন পানির পরিমাণ কমে যায়। হাঁটার জন্য একই কথা প্রযোজ্য। 


কোন কোন খাবারে কি পাওয়া যায় তা তো জানলাম কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে কি কি পরিবর্তন আনবে ফাইবারের পরিমাণ বাড়বে তা বলব। আমরা প্রায় সবাই রুটি কিংবা ভাত খাই এই ক্ষেত্রে যদি আমরা লাল চাল ব্যবহার করি তাহলে আমাদের খাবারের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। দুই ভাবে ফইবার বাড়ানো যায় রুটি শাকের ডাল খেতে পারে ডালে ভালো পরিমাণে ফাইবার আছে। তিন প্রতিবার খাওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন। আপনার সব ঠিকই আছে প্রতিবেলায় যদি সবজি খেতে পারেন তাহলে অনেক কয়বার পেটেযাবে। সবজির তরকারি না খেতে চাইলে বা সবজি রান্না করা না হলে আরেকটা উপায় আছে। তা হলো শসা গাজর টমেটো কেচাপ বানিয়ে ফেলতে পারে। পেটের একপাশে ভালো পরিমাণে সাড়া দিয়ে খাওয়া শেষ করে সেখান থেকেও অনেক কয়বার পাওয়া যাবে। নাস্তা খাওয়ার সময় একটা ফল যেমন কলা আপেল এনাস্পতি খেতে পারেন অল্প করে বাদাম খেতে পারেন সাথে অথচ খেতে পারেন। যদি ভালো লাগে খেতে পারেন।  যেসব ফল শাকসবজি খোসাসহ খাওয়া যায় সেগুলো খোসাসহ খাওয়ার চেষ্টা করবেন। যেমন আপেল টমেটো খোসাসহ আলু কারো সাথে ফাইবার থাকে তবে খোসাসহ পেলে অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে সেগুলো ধুয়ে নিবেন যখন সম্ভব হলনা সবজি করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। ব্লেন্ড করলে জুস বানালে বানালে আর্টস কমে যায়। 

তবে খাবারে ফাইবার বাড়ানোর ক্ষেত্রে দুইটা জিনিস মাথায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রথমত হঠাৎ করে খাবারের পরিমাণ বাড়ালে অনেকে  সমস্যা দেখা দেয় বা পেট ফাঁপা লাগতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বাড়াবেন। যে পরামর্শ বললাম সেগুলো নিয়ে একটা পরিকল্পনা তৈরি করবেন। আপনার সুবিধা অনুযায়ী কোনটা আগে কোনটা পরে খাবেন তা নিজেই ঠিক করে নিবেন। একসাথে সবগুলো শুরু করবেন না। 

দ্বিতীয়ত ফাইবার পানি শোষণ করে তাই খাদ্যে ফাইবার এর পরিমাণ বাড়ানোর সাথে সাথে যথেষ্ট পরিমাণ পানি নিশ্চিত করতে হবে। পানি নিয়ে আবার দ্বিতীয় পরামর্শ কোষ্ঠকাঠিন্যের দুই নম্বর কারণ যথেষ্ট পরিমাণে পানি না খাওয়া। পায়খানা নরম করতে হলে শরীরের পানি প্রয়োজন হয়। আবার পায়খানা যাতে আমাদের বৃহদন্ত্রে অর্থাৎ পেটের নাড়িতে সহজে চলাচল করতে পারে কোথাও আটকে না থাকে তার জন্য প্রয়োজন পানি। তাই আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ পানি না পান করেন তাহলে পায়খানা নরম না হয়ে শক্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সমাধান কি দিনে অন্তত দুই লিটার পানি পান করতে হবে। সেই পানি ব্যবহার করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে। আপনার সাথে একটা এক লিটারের বোতল রাখতে পারেন তাহলে দিনে কতটুকু পানি পান করেন সেটা হিসাব করতে সহজ হবে। 


এখন চলে আসি কোষ্ঠকাঠিন্যের তিন নম্বর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে বসে থাকা আমরা যদি হাঁটাচলা কমিয়ে দেয় শারীরিক পরিশ্রম না করি অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে বসে থাকি ব্যায়াম না করি তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। শরীরচর্চা করলে আমাদের বৃহদন্ত্র অর্থাৎ পেটের ভেতরে থাকে নাড়িভুঁড়ি সচল হয় এবং স্বাভাবিক পায়খানা হতে সাহায্য করে আমরা যত বেশি বাসা থেকে কাজ করবো বাসা থেকে অনলাইন ক্লাস করবো অফিসে বা ইউনিভার্সিটি তে যাওয়ার অসক্ষম হবে ততই আমাদের হাঁটাচলা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হয়তো সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দুই কদম দিয়ে টেবিলে বসে সারাদিন সেখান থেকেই আপনি কাজ করছেন বা ক্লাস করছেন। দিনে আর ব্যায়াম করা হচ্ছে না তখন কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কি করতে পারেন প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করা ব্যায়াম করা বা দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। একদম কিছু না করার চেয়ে অল্প কিছু করাও শ্রেয়। আজকে থেকেই শুরু করতে পারেন। চিন্তা করলেন প্রতিদিন 10 মিনিট 15 মিনিট দ্রুত হাঁটতে হবে তারপর আস্তে সময়টা আপনি বাড়াবেন। আর একটানা অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে বা বসে থাকবেন না। একটু উঠে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করে নিবেন। কতক্ষণ ব্যায়াম করতে হবে আপনার বয়স 19 থেকে 64 এর মধ্যে হয় তাহলে আপনার লক্ষ্য থাকবে সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘন্টা মাঝারি ধরনের ব্যায়াম। করা মাঝারি ধরনের ব্যায়াম গুলো হলো দ্রুত হাঁটা সাইকেল চালানো ইত্যাদি। যদি তার চেয়ে বেশি খাটুনির ব্যায়াম করে যেমন দৌড়তে ফুটবল খেলা দড়ি লাফানো তাহলে আপনার লক্ষ্য হবে সেগুলো সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা করে করা। অর্থাৎ সপ্তাহে 75 মিনিট করলেই হবে। 


চার নম্বর কারণ পায়খানার চাপ আসলে টয়লেটে সুইচ চেপে রাখা পায়খানা করে। পায়খানা আটকে রাখলে দিন দিন শরীর সেটা থেকে পানি শুষে নেয় ফলে পায়খানা ক্রমেই শক্ত হতে থাকে। সেটা শরীর থেকে বের করা খুবই যন্ত্রণাদায়ক হয়। কি করবেন পায়খানার চাপ আসলে বেশি দেরি করবেন না বাথরুমে চলে যাবেন যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ আছে তাদের জন্য আমরা প্যানে যেভাবে বসে সেই দেহভঙ্গি পায়খানা করার জন্য সবচেয়ে ভালো। তাই যদি সম্ভব হয় বসে প্যাড ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। এইটা হচ্ছে এইটা তবে বাসায় যদি প্যান্ট না থাকে বা কমোড ব্যবহার করতেই হয় তাহলে যেটা করতে পারেন সেটা হল পায়ের নিচের ছোট টুল দিয়ে পা উচু করতে পারেন। হাঁটুদুটো কোমরের উপরে তোলার চেষ্টা করবেন। পাঁচ নম্বর কারণ মানসিক উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্নতা। আপনি যদি অনেক মানসিক চাপে থাকে উদ্বিগ্নতা কিংবা বিষণ্ণতায় ভোগে তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। কি করতে পারে মানসিক প্রশান্তি আনে এমন কিছু কাজ করার চেষ্টা করবেন। সেটা হতে পারে আপনজনের সাথে সময় কাটানো। আর যদি আপনি বিষন্নতা বাহ্যিক পারেন অথবা উদ্বিগ্নতায় কি রোগে ভুগে থাকে তাহলে সেই রোগের চিকিৎসা নেবেন আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য আস্তে আস্তে সেরে উঠবে। 


ছয় নম্বর কারো কিছু ওষুধ নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন আমাদের জাতীয় ব্যথার ওষুধ। আয়রন বা ক্যালসিয়াম সাপ্লেমেন্ট ইত্যাদি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সমাধান কি নতুন শুরু করার পরে যদি মনে হয় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে গেছে কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওষুধ দিতে পারেন। আর যদি এমন হয় যে আপনাকে সারাজীবন খেতেই হবে তাহলে আগে যে উপায়গুলো বললাম সেই উপায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে রাখার চেষ্টা করবে। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য কোনো গুরুতর রোগের কারণে হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ডায়াবেটিস রোগ হলে। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কখন ডাক্তারের সহায়তা নিবেন যদি ঘরোয়া উপায়ে সমাধান না হয়। যদি দীর্ঘদিন যাবত নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভোগেন পেট ফাঁপা লাগে, অনেক দিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকার উপযোগী ডায়রিয়া শুরু হয়, যদি পায়খানার সাথে রক্ত যায়, বা পায়খানা কালো হয়, পায়খানার রাস্তায় যদি ব্যথা হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে যদি পেট ব্যথা হয়, বা জ্বর আসে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগতেছে, যদি ওজন অনেক কমে যায়, কোন কারন ছাড়াই বা কোনো চেষ্টা ছাড়াই যদি রক্ত শূন্যতায় ভোগে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে একজন ডাক্তারের সহায়তা নিবেন। সবাই নিরাপদে থাকবেন ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শীঘ্রই আবার দেখা হবে। 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url