হঠাৎ প্রেশার বেড়ে গেলে কি করনীয়। - freshfox99

 


যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের ব্লাড প্রেসার যদি দ্রুত অনেক বেড়ে যায় তখন একটা বিপদজনক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমি এখন আলোচনা করবো কি কি ভুলের কারণে প্রেশার অনেক বেড়ে যেতে পারে। আর বেড়ে যদি যায় তবে কি করবেন। 


শুরু করছি, কারণ গুলো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলি।

 সবচেয়ে কমন কারণ হলো হাই ব্লাড প্রেসার চিকিৎসার না হওয়া বা অপর্যাপ্ত চিকিৎসা হতে পারে চারটা উদাহরণ দিচ্ছি। এক যদি রোগীর না জানে যে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে, এটাও কি সম্ভব সে আবার জানে না কিভাবে শুধু যে সম্ভব তাই না বরং গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চরক্তচাপের অর্ধেক রোগী জানেন না যে তারা এই রোগে ভুগছেন। কারণ এই রোগের সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না একমাত্র ব্লাড প্রেসার মাপার এই বোঝা যায় কার উচ্চ রক্তচাপ আছে কার নেই। গত এক বছরে যারা রক্তচাপ মাপের নি তারা তো জানবেন না তাদের এই রোগ আছে কিনা না। জানলে চিকিৎসা হবে না জীবন যাপনে কোনো পরিবর্তন আসবে না তখন রক্তচাপ অনেক বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

দুই ঔষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শে ব্লাড প্রেসার ওষুধ খাওয়া শুরু করেন তারপর একটু সুস্থ বোধ করলে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে নিজে নিজেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। কোন সমস্যা হয় না তবে হাই ব্লাড প্রেসার নিরবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতি করতে থাকে। যেমন ধরেন উচ্চ রক্তচাপের কারণে রক্তনালীর ক্ষতি হওয়া। একটা কমন ব্যাপার রক্তনালীর এই ক্ষতি হঠাৎ একদিন মাঝরাতে রক্তচাপ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। এজন্যই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্রেসারের ঔষধ খাওয়া বন্ধ না করতে।

 ব্লাড প্রেশারের ওষুধ কমিয়ে খাওয়া ডাক্তার দুইটা ওষুধ দিয়েছিল কিন্তু আপনি একটা ওষুধ খাচ্ছেন অথবা ডাক্তার বলেছে দুই বেলা ওষুধ খেতে আপনি এক বেলা করে খাচ্ছেন কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন আমার শরীর তো কোন অসুবিধা হচ্ছে না ভালোই আছি। এমনটা করার কারণে আপনার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যেতে পারে সেটা হয়তো আপনি বুঝতে পারবেন না। এখানে স্পষ্ট করে নেই ব্লাড প্রেসারের ঔষধের সারা জীবন একই পরিমানে খেতে হবে। ব্যাপারটা এমন নয় অবশ্যই পরিস্থিতি অনুযায়ী বাড়ানো বা কমানো যাবে। এমনকি ওষুধ বন্ধ করে দেয়া যেতে পারে কিন্তু সেটা হতে হবে আপনার ব্লাড প্রেসার কত শরীরে অন্যান্য কি কি রোগ আছে ইত্যাদি বিষয়ে যত্ন সহকারে বিবেচনা করে। এই বিবেচনায় কাজটি নিজে না করে অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন, না হলে বিপদ হতে পারে। অনেকে আরেকটা যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন তোলেন যে 

ব্লাড প্রেসার ওষুধের কি কোন সাইড ইফেক্ট নেই?

 উত্তর হল সাইডএফেক্ট আছে তবে ওষুধ না খেলে শরীরের যে ক্ষতি হবে সে তুলনায় ওষুধের সাইডিফেক্ট অনেক কম। তাই এই ওষুধ খেতে পরামর্শ দেয়া হয় ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়া প্রেসারের ঔষধ সাধারণত প্রতিদিন খেতে হয় কিন্তু হাই ব্লাড প্রেসার হলে রোগী যেহেতু সাধারণত কোনো ব্যথা বা অস্বস্তি তে থাকেই তাই অনেক রোগী ওষুধ খেতে ভুলে যান। একটা উদাহরন দিচ্ছি আমাদের শরীরে যদি গরমে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয় তাহলে সেটা জ্বর না ব্যথা আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপে তেমন কোনো লক্ষণ সাধারণত থাকে না। তাই অনেক সময় ওষুধ খেতে ভুলে যায়। 

এছাড়াও প্রেসার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আরো কিছু কারণ আছে সেগুলো কি কি?

 মানসিক চাপ ও নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ।


এখন আসি প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেলে কি করনীয়। আপনি প্রেশার মেপে দেখলেন উপরেরটা 180 বা নিচেরটা 120 এর বেশি তারপর আপনার প্রথম কাজ হলো না ঘাবড়ানো শান্ত হয়ে বসুন। তারপর পাঁচ মিনিট পরে আবার সঠিক নিয়মে ব্লাড প্রেসার মাপার পরও যদি প্রেসার বেশি আসে তাহলে আপনাকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর দেরি করা যাবে না। কী ব্যবস্থা নিবেন সেটার দুই ভাগে ভাগ করে বলছি।

 প্রথম ভাগ হলো যাদের প্রেসার হাই কিন্তু কোনো লক্ষণ নাই তাদের জন্য। 

দ্বিতীয় ভাগ হলো যাদের প্রেসার হাই এবং সাথে অন্যান্য লক্ষণ আছে তাদের জন্য। 

প্রথমে বলি যাদের প্রেসার হাই কিন্তু আর কোনো লক্ষণ নেই এমনটা হলে প্রথম কাজ হলো খুঁজে বের করা। কেন প্রেসার এত বেড়ে গেল ওষুধ ঠিকমত কাজ করছে না নাকি শরীরে অন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হল। এটা একটা সূক্ষ্ম গাছ যার জন্য প্রয়োজন মেডিকেল কলেজ এটা বাসায় বসে নিজে নিজে করা ঠিক হবে না তাই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আর দুইটা কাজ করবেন। এক ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় ব্লাড প্রেশার মেপে দুটো সংখ্যায় একটা কাগজে লিখে রাখবেন। সাথে লিখবেন কয়টার সময় এই প্রেসার মেপেছেন পরপর কয়েক ঘণ্টা বা দিনে কয়েকবার মাপার প্রেসারে সংখ্যা দেখলে ডাক্তার বুঝতে পারবেন আপনার ব্লাড প্রেসারে অবস্থা কেমন। আপনি ব্লাড প্রেসারে কি কি ওষুধ খান কি পরিমাণে কোন সময়ে খান কোন কোন বেলায় ওষুধ খেতে মিস করেছে সেই সব তথ্য আর কাগজপত্র একত্র করবেন অন্য কোন ওষুধ খেয়ে থাকলে সেটা হোমিওপ্যাথি হোক আর ভেষজ ওষুধ সেগুলোও সাথে করে নিয়ে যাবেন। এই দুইটা তথ্য পেলে চিকিৎসকের জন্য সহজ হবে আপনার শরীরে কি হচ্ছে সেটা বোঝা এবং তিনি প্রকৃত অবস্থা জেনে শুনে একটা সুচিন্তিত মতামত দিতে পারবেন আপনি কখনই চাইবেন না যে একজন ডাক্তার আপনার শরীর অবস্থান নাজিরের পরামর্শ দিয়ে সঠিক তথ্য জানাতে। আপনি যতটা সাহায্য করবেন আপনার চিকিৎসা ততটাই ভালো হবে। এসব দেখেশুনে একজন ডাক্তার আপনার প্রেশারের ওষুধ পাল্টে দিয়ে নতুন কিছু ওষুধ দিয়ে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করবেন। যদি মানসিক চাপ বেশি থাকে সেটার চিকিৎসা করবেন। তারপর এক সপ্তাহ পর তিনি আবার দেখবেন। আপনার স্বাস্থ্য এবং প্রেসারে কি অবস্থা। লক্ষ্য হল ব্লাড প্রেসার 130/80 এর নিচে আনার লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি অন্তত মাসে একবার আপনাকে দেখবেন। এবং লক্ষ্যে পৌঁছে গেলে তিন থেকে ছয় মাসে একবার দেখবেন। এক্ষেত্রে আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন যে আমি তো ভালোই আছি তাহলে এত কিছু করার দরকার কি। এটা একটা ভালো প্রশ্ন তবে ওই যে শুরুতে বললাম মারাত্মক বিপদ এখনো হয়নি কিন্তু উচ্চরক্তচাপ অনেকদিন থাকলে বিপদ আসন্ন তাই খুব কড়া নজর রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। 

এতক্ষণ বলেছি যাদের প্রেসার দ্রুত অনেক বেড়ে গেছে কিন্তু অন্য কোনো অসুস্থতা বাসিক লক্ষণ দেখা দেয় নি। এখন বলব প্রেসার বাড়ার পাশাপাশি বাহ্যিক লক্ষণ দেখা দিলে কি করবেন। এই লক্ষণগুলো কি কি সংক্ষেপে বলে দিচ্ছি স্পেনীয় দেখতে পাবেন মাথা ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি ভাব, বা বমি ফিউশনবদ, কি আবোল তাবোল বকা, ভুলে যাওয়া, ঝিমিয়ে পড়া, অচেতন অজ্ঞান,হয়ে পড়ে, খিঁচুনি, মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া, বাড়াতে না পারা, মুখের কথা আটকে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, অস্থির লাগে, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, এমন হলে নিজে নিজে ওষুধ খেলে প্রেসার কমানোর চেষ্টা করবেন না। কারণ এই অবস্থায় খুব সতর্কতার সাথে প্রেসার কমাতে হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রেসার কমলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেমন রোগী যদি চুপ করে থাকে তাহলে সাথে সাথে প্রেসার কমানো হয় তাতে ব্রেইনের রক্তচলাচল আরও কমে যেতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রেসার খুব দ্রুত নামিয়ে আনে লাগে যেমন মূল রক্তনালী যদি ছেড়ে যায় আর সাধারনত শিরায় ইনজেকশন দিয়ে প্রেসার কমানোর মুখের ওষুধ দেয়া হয় না। বাসায় বসে তো আপনার পক্ষে এসব হিসাব নিকাশ সম্ভব না তাই মাথা ঠান্ডা রেখে কিভাবে দ্রুততম উপায় রোগীকে এমার্জেন্সি বিভাগে নেয়া যায় সেই পরিকল্পনা করুন।


অনেকে জিজ্ঞেস করে টক খেলে বা তেতুল খেলে সাথে সাথে প্রেসার কমবে কিনা?

 উত্তর হলো না। 

তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসার কমানোর জন্য এটা ভালো উপায় নয় বরং তেতুল খুঁজতে গিয়ে যদি হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় সেটা রোগীর জন্য উপকার বয়ে আনবে না। তবে দীর্ঘ মেয়াদে তেতুল খেলে উপকার আছে কারণ তেতুল একটা ফল আর উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের কি আমরা দিনে চার থেকে পাঁচটা মাঝারি সাইজের ফল খেতে বলি। কারণ ফলে তুলনামূলকভাবে বেশি পটাশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তেতুলে ভালো পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। অন্যান্য ফল যেমন খেজুর, কলা, কমলা, আমরা, জলে ও পটাশিয়াম আছে। তেঁতুলই খেতে হবে এমন কোন কথা নেই। নিরাপদে থাকবেন শীঘ্রই আবার দেখা হবে। 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url